অপেক্ষা আর আক্ষেপের রায়পুর সরকারি কলেজে! ৪৯ বছরেও নেই অনার্স -ছাত্রাবাস


মোঃওয়াহিদুর রহমান (মুরাদ), লক্ষ্মীপুর।
অপেক্ষা আর আক্ষেপের রায়পুর সরকারি কলেজে! ৪৯ বছরেও নেই অনার্স -ছাত্রাবাস। রায়পুর উপজেলা সদর হতে ১ কি:মি: দূরে রায়পুর-পানপাড়া সড়কের পাশে নাগরিক কোলাহলমুক্ত প্রকৃতির অনাবিল সবুজ-ছায়াঘেরা এক শান্ত ও রম্য পরিবেশে রায়ুপর কলেজের অবস্থান। রায়পুরেরজমিদারদের (মিয়া বাড়ীর বংশধর) দানকৃত প্রায় ১৪ (চেৌদ্দ) একর ভূমিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে একাডেমিক, প্রশাসনিক ভবন ও সুবিশাল খেলার মাঠ। মেঘনা বিধৌত রায়পুর উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের সাধারন মানুষের উচ্চ শিক্ষা লাভের পথ সুগম করার উদ্দেশ্যে ১৯৭০ সালে রায়পুর কলেজ প্রতিষ্ঠা হয়। ১৯৮৭ সালে কলেজটি জাতীয়করণ করা হয়।

কলেজে বর্তমানে প্রায় ২ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নানা কারণে এই কলেজের ফলাফলে অবনতি ঘটলেও কলেজের পূর্বের ইতিহাস উজ্জ্বল। প্রতিবছর এখান থেকে এইচএসসি শেষ
করে প্রায় দেড় সহস্রাধীক ছাত্রছাত্রী সম্মান শ্রেণিতে ভর্তি হতে লক্ষ্মীপুর কিংবা চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাড়ি জমায়।

শুধু রায়পুর সরকারি কলেজেই না, রায়পুরে রয়েছে মহিলা কলেজ, রুস্তম আলী ডিগ্রি কলেজ, হায়দরগঞ্জ মডেল কলেজ, প্রিন্সিপাল কাজী ফারকী স্কুল এন্ড কলেজ।এই কলেজগুলোর কোনটিতেই সম্মান শ্রেণি চালু নেই।রায়পুরের এ সব কলেজ থেকে প্রতি বছর আরো ৩ হাজার শিক্ষার্থী পাশ করে উচ্চ শিক্ষার জন্য পাড়ি দেয়।যাদের আর্থিক অবস্থা ভালো তারা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়,বাকিরা লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ কিংবা চাঁদপুর সরকারি কলেজে ভর্তি হতে জড়ো হয়। অধিকাংশ ছাত্রছাত্রীই সীমিত আসনের জন্য ভর্তি হতে পারেনা। আবার অনেকে তার পছন্দের সাবজেক্ট পায় না। এভাবেই বহু ছাত্রের উচ্চ শিক্ষার দ্বার রুদ্ধ হয়ে পড়ে।

অবহেলার এ দায়ভার কেউ নেয় না। উচ্চ শিক্ষার সুযোগ না থাকায় এই ঝরেপড়া যুব সমাজের মেয়েদের বসতে হয় বিয়ের পিড়িতে আর ছেলেদের পাড়ি জমাতে হয় প্রবাসে। যাদের প্রবাসে যাওয়ার সুযোগ হয় না তারা হতাশায় ভোগে। খুব সহজেই ধরে ফেলে মাদক।
ঢাকাস্থ ছাত্র -ছাত্রী কল্যাণ সংস্থার কামরুল হাসান বলেন, রায়পুরের প্রানকেন্দ্রে অবস্থিত রায়পুর সরকারি কলেজে রয়েছে যোগ্য শিক্ষকদের সমাগম। রয়েছে শিক্ষার দারুন পরিবেশ রয়েছে হাজার হাজার ছাত্র। কিন্তু অভাব দুরের ছাত্রদের ছাত্রাবাস এবং কলেজে সম্মান শ্রেনি চালু নেই। অথচ সুন্দর পরিবেশ আর সম্ভাবনার হাত বাড়িয়ে আছে রায়পুর সরকারি কলেজটি।এখানে সম্মান শ্রেণি চালু হলে রায়পুর আরেক দাপ এগিয়ে যেতে পারে। রায়পুরের সম্ভাবনাকে হাতে তুলে আনতেও দেরি হবেনা। রায়পুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মাহবুব করিম সার্বিক বিষয়ে বলেন, আমি যোগদানের পর থেকে পরিস্থিতি উন্নতির দিকে। শিক্ষক সংকট থাকার বিষয়টি অবগত তবে উপজেলা এরিয়ায় শিক্ষকদের আবাসন যোগাযোগ ব্যবস্থা, ছাত্রাবাস, পরিবহন ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নেই। ইতোমধ্যেই স্থানীয় সাংসদকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। বিগত সাংসদের মাধ্যমে ডিপকল এবং আমার নিজস্ব চেস্টায় কলেজের রাস্তাটি করেছি। সবার আন্তরিক প্রচেষ্টা না হলে ঐতিহ্যবাহী কলেজটি পরিপূর্ণ হবে না উন্নয়ন।

About alokitonoakhali