আশ্বাসে আস্তা হারিয়েছে সড়ক! রায়পুর-পানপাড়া সড়ক চলাচলের অনুপযোগী, ভোগান্তি বছরের পর বছর।

মোঃওয়াহিদুর রহমান (মুরাদ), রায়পুর।

গত এক যুগেও সংস্কার হয়নি রায়পুর উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। সেই
সড়ক জুড়ে গর্ত আর খানাখন্দ। স্থানে স্থানে উঠে গেছে মাটিও।বড় বড় গর্তে জমে আছে কাদা পানি। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় লক্ষ্মীপুরের রায়পুর-পানপাড়া সড়কের এমন দশা হয়েছে।
বেহাল এই সড়কে প্রায় দুই বছর ধরে ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। কোথাও কোথাও সড়কের অবস্থা এতটাই বেহাল যে হেঁটেও চলাচল করা যায় না। ফলে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন দুই উপজেলার অন্তত ৩০ হাজার মানুষ।

জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর-রামগঞ্জ উপজেলার মধ্যে যোগাযোগের সহজ মাধ্যম ওই সড়ক। দুই উপজেলার বিভিন্ন পণ্য দ্রুত শহরে পৌঁছানো সম্ভব হতো এ সড়ক দিয়ে। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় এই সড়কে চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্তমানে ওই সড়কের যানবাহনগুলোকে প্রায় ২৫ কি.মি. ঘুরে রায়পুর-রামগঞ্জ উপজেলা শহরে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) আওতাধীন এই সড়ক এক সময় কাঁচা ছিল। আট বছর আগে এলজিইডি বিভাগ সড়কটির ছয় কিলোমিটার সংস্কার করে। সংস্কারের ৬মাস পরই সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ ঢালাই উঠে গর্ত হয়ে যায়। সব শেষ গত দুই বছর আগে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে সড়কের বিভিন্ন স্থান ভেঙে যায়। সৃষ্টি হয় ছোটবড় গর্তের। বিশেষ করে সাত কিলোমিটার সড়কের তিন কিলোমিটার একেবারেই ভেঙে গেছে।

সিএনজি আনোয়ার বলেন, সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গিয়ে বড় বড় গর্ত হয়েছে। ওই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে লোকজন দুর্ঘটনার শিকারও হচ্ছেন। আর সামান্য বৃষ্টি হলে সিএনজি দূরের কথা পাঁয়ে হেঁটেও যাওয়া যায় না। বর্তমান এমপির বাড়িও এই সড়কে। এরপরও সড়কটি সংস্কার হচ্ছে না।

রায়পুর উপজেলার কেরোয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান কামাল বলেন, ‘এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন দুই উপজেলার বিপুল সংখ্যক মানুষকে জেলা শহরে চলাচল করতে হয়। বর্তমানে সড়কের এমন অবস্থা যানবাহন তো দূরের কথা, হেঁটে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই সড়ক দিয়ে ভারী সব যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি এমপিসহ বিভিন্ন জায়গায় জানানোর পরও সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।

রায়পুর উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মো.তাজুল ইসলাম বলেন, ‘সড়কটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বিগত সাংসদ নোমান এমপি জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি মেরামতের জন্য আর.সি.আই.পি. প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করে দরপত্রও আহ্বান করার ব্যবস্থা করেছিলেন। আন্তর্জাতিক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স তমা এন্টারপ্রাইজ ওয়ার্ক অর্ডার পায়। আগামী মাস সেপ্টেম্বর – অক্টোবরে কাজ শুরু হবে। আনুমানিক ৬ কিঃমিঃ সড়কে ৭ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। তবে রাস্তাটি এই অঞ্চলের জন্য নতুন প্রজেক্টের আওতাধীন তাই আগে গাছ কাটার টেন্ডার শেষ করে তারপরই রাস্তার কাজ শুরু করতে হবে।

About Senior Editor