‘গ্লোবাল ফিন্যান্স মিনিস্টার অব দ্য ইয়ার’ মুস্তফা কামাল

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

বিশ্বের সেরা অর্থমন্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিজনেস পত্রিকা দ্য ব্যাংকার মুস্তফা কামালকে ‘গ্লোবাল ফিন্যান্স মিনিস্টার অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কারে ভূষিত করে। এবারই প্রথম বাংলাদেশের কোনো অর্থমন্ত্রী এ পুরস্কার পেলেন।

আর্থিক খাতে গতিশীলতা আনাসহ দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিতকরণে গৃহীত পদক্ষেপসহ সার্বিক কর্মকাণ্ড বিবেচনা করে তাকে এ পুরস্কার দেয়া হয়েছে। এ পুরস্কার দেশের জনগণকে অর্থমন্ত্রী উৎসর্গ করেছেন।

এশিয়া-প্যাসিফিক, আমেরিকা, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ- পাঁচটি অঞ্চল থেকে পাঁচজন অর্থমন্ত্রীকে পুরস্কৃত করা হয়। তাদের মধ্য থেকে একজনকে বিশ্বের মধ্যে শ্রেষ্ঠ অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করা হয়। বিশ্বে ব্যাংকিং সেক্টরের ইন্টেলিজেন্স হিসেবে খ্যাত দ্য ব্যাংকার ১৯২৬ সাল থেকে প্রকাশিত হচ্ছে এবং ২০০৪ সাল থেকে এ পুরস্কার দিচ্ছে।

গত বছর এ পুরস্কার পেয়েছিলেন ইন্দোনেশিয়ার অর্থমন্ত্রী। ২০১৮ সালে ভারতের তৎকালীন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি এবং ২০১৭ সালে আর্জেন্টিনার তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এ পুরস্কার পান।

২০১৯ সালের জানুয়ারিতে টানা তৃতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে আ হ ম মুস্তফা কামাল অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এর আগে ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।

মুস্তফা কামালের মেয়াদে গত বছর মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এটি দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের মধ্যে সর্বোচ্চ। এছাড়া ব্যাংক, আর্থিক খাত এবং রাজস্ব খাতে তিনি বেশকিছু সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে- ঋণের সুদের হার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনা, যৌক্তিক কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি হওয়া ঋণ পুনঃতফসিল, ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের দেউলিয়া ঘোষণাসহ তাদের সম্পদ বিক্রি করে ঋণ আদায়, ব্যাংকের পরিবর্তে শেয়ারবাজার থেকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ অর্থায়নে প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং বন্ড মার্কেট চালুর উদ্যোগ।

এছাড়া কর আদায়ে নতুন ভ্যাট আইন চালু করা, কাস্টমস আইন সংস্কার করা এবং আয়কর আদায়ের নেট উপজেলা পর্যন্ত বিস্তারের উদ্যোগ এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স বৃদ্ধির জন্য প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছে। বিশ্ব প্রবৃদ্ধিতে প্রভাব বিস্তারকারী শীর্ষ ২০ দেশের অন্তর্ভুক্ত বাংলাদেশ।