ছাত্র রাজনীতি থেকে সংসদ সদস্য :লক্ষ্মীপুরের এ্যানি চৌধুরীর সংক্ষিপ্ত জীবনী

আলোকিত নোয়াখালী: editor | সংবাদ টি প্রকাশিত হয়েছে : ৩০. মে. ২০১৭ | মঙ্গলবার

ছাত্র রাজনীতি থেকে সংসদ সদস্য :লক্ষ্মীপুরের এ্যানি চৌধুরীর সংক্ষিপ্ত জীবনী


মোঃওয়াহিদুর রহমান মুরাদ, আলোকিত নোয়াখালী।
ছাত্র রাজনীতি দিয়ে যে ব্যক্তি দেশের বরণ্যে রাজনৈতিক পরিচয় বহন করছেন তিনি লক্ষ্মীপুরের শহীদ উদ্দিন এ্যানি চৌধুরী ।

শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ১৯৬৮ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি লক্ষ্মীপুর পৌরসভার বাঞ্চানগর গ্রামে সম্ভ্রান্ত চৌধুরী পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম বসির উল্যাহ চৌধুরী। তিনি লক্ষ্মীপুরের একজন বনেদী ব্যবসায়ী ছিলেন। একজন দানশীল ব্যক্তি ও সমাজসেবক হিসেবে এলাকায় উনার এখনও অনেক সুখ্যাতি রয়েছে। এ্যানি’র মায়ের নাম হোসেনে আরা বেগম। তিনি একজন গৃহিণী। এ্যানি’র পিতামহ জনাব আলহাজ্ব পানা মিয়া বৃটিশ শাসন আমলে ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। দুই চাচাতো ভাই জনাব সাহাবুদ্দিন চৌধুরী এবং চৌধুরী খোরশেদ আলম এক সময়ে লক্ষ্মীপুরে সংসদ সদস্য ছিলেন। মূলত বাবা মা এবং পারিবারিক উৎসাহের কারণেই তার রাজনীতিতে আসা।

১৯৭১ সালে মাত্র ৪ বছর বয়সে গৃহশিক্ষকের মাধ্যমে তার লেখা পড়ার হাতেখড়ি হয়। এরপর যথাক্রমে লক্ষ্মীপুর টাউন প্রাইমারি স্কুল,লক্ষ্মীপুর প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিউট (পি.টি.আই) তে তিনি প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৯৮৩ সালে লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস.এস.সি এবং ১৯৮৫ সালে ঢাকা বিজ্ঞান কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে এইচ.এস.সি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৮৫-৮৬ইং শিক্ষাবর্ষে তিনি প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফলিত রসায়ন ও প্রযুক্তি বিদ্যা বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৮৮ সালে এই বিভাগ থেকে অনার্স এবং ১৯৮৯ইং সালে এম.এস.সি ডিগ্রী অর্জন করেন। ১৯৯৩ সালে ঢাকা বিশ্বাবিদ্যালয় থেকে ডিপ্লোমা-ইন এডুকেশন সমাপ্ত করেন।

১৯৭৯ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যখন লক্ষ্মীপুর আসেন মুসাখাল খনন কর্মসূচির উদ্ভোধন করতে। মূলতঃ তখন থেকেই তিনি শহীদ জিয়ার ব্যক্তিত্ব এবং রাজনীতির প্রতি আকৃষ্ট হন। ১৯৮২-৮৩ইং সালে স্কুল জীবনে ছাত্র অবস্থায় বিএনপির অঙ্গসংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সক্রিয় রাজনীতি শুরু করেন। এর পর লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রদলের সদস্যপদ দিয়ে শুরু হয় তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ার। যাহা নিন্মরূপঃ
১৯৮২-১৯৮৫ইং সদস্য,লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রদল।
১৯৮৫-৮৬ইং সদস্য,শহীদ উল্যা হল,ছাত্রদল,ঢাকা বিশ্বাবিদ্যালয়।
১৯৮৭-৮৮ইং সাধারণ সম্পাদক, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল,ছাত্রদল, ঢাঃবি।
১৯৮৯ইং জি.এস, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল,ছাত্র সংসদ।
১৯৯০ইং সদস্য, কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।
১৯৯০-৯৩ইং সিনেট সদস্য,ঢাকা বিশ্বাবিদ্যালয়।
১৯৯২ইং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ।
১৯৯৩-১৯৯৬ইং যুগ্ম সম্পাদক, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ।
১৯৯৩ইং আহবায়ক,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
১৯৯৬ইং সভাপতি, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ।
১৯৯৯ইং সদস্য, জাতীয় নির্বাহী কমিটি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল।
২০০১ইং সংসদ সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ, লক্ষ্মীপুর ০৩,সদস্য, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।
সদস্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।
২০০৮ইং সংসদ সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ, লক্ষ্মীপুর ০৩,সদস্য,বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। সদস্য, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। বিরোধী দলীয় চীপ হুইপ (ভারপ্রাপ্ত), বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ। এছাড়া ২০০১-২০০৮ইং সালে তিনি বাংলাদেশ অল পার্টি-পার্লামেন্টারী গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নিউইয়র্কে জাতি সংঘের সভায় প্রতিনিধিত্ব করেন।
২০০৮ইং ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক, জাতীয় নির্বাহী কমিটি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল।
২০১৬ইং প্রচার সম্পাদক,জাতীয় নির্বাহী কমিটি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল।

তিনি পেশাগত এবং রাজনৈতিক কারণে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য,জার্মান,অষ্ট্রেলিয়া,হল্যান্ড,ফিলিপাইন,চীন,ভারত,জাপান,সিঙ্গাপুর,মালোশিয়া,ইন্দোনেশিয়া,সৌদিআরব,কাতার,দুবাই,কুয়েত,আবুধাবি,বাহরাইন,মায়ানমার,থাইল্যান্ড,নেপাল,ভুটান ভ্রমণ করেন।

শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি একজন সমাজসেবক শিক্ষা সাংস্কৃতিক পৃষ্ঠপোষক। উনি তার নির্বাচনী এলাকায় অনেক বিদ্যালয়,মাদ্রাসা এবং কলেজ এর উন্নয়ন ও প্রতিষ্ঠার সঙ্গে জড়িত। তিনি লক্ষ্মীপুর জেলা টাউন ক্লাব ও পাবলিক লাইব্রেরি, অভিকসংঘ লক্ষ্মীপুর ক্লাবের আজীবন সদস্য সহ অনেক ক্রীড়া ও সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত। এছাড়া রোটারি ক্লাব অব লক্ষ্মীপুরের একজন সন্মানিত সদস্য।

শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এরশাদ বিরোধী আন্দোলন ও আওয়ামী সরকারের আমলে বহু ষড়যন্ত্রমূলক মামলা, রাষ্ট্রদ্রোহী মামলাসহ অনেক রাজনৈতিক মিথ্যা মামায় একাধিকবার গ্রেফতার, রিমান্ডসহ কারা নির্যাতিত ও আহত হয়েছেন। ছাত্রদলের সভাপতি থাকাকালীন সময়ে ১৯৯৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের এক প্রতিবাদ মিছিলে নেতৃত্ব দেয়ার সময়ে তৎকালীন আওয়ামী সরকারের পুলিশ বাহিনী তাকে টার্গেট করে টিয়ারগ্যাসের সেল নিক্ষেপ করে। আল্লাহ্‌র অশেষ রহমতে তিনি প্রাণে বেঁচে যান।

এছাড়া তিনি শিক্ষা প্রসারে নিজ উদ্যোগে হাজী বসির উল্যাহ চৌধুরী ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও এতিমখানা এবং কুশাখালী এ্যানি চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক। তার স্ত্রী পারভীন আক্তার চৌধুরী একজন গৃহিণী।

এই বিভাগের আরো খবর Posts