জাতীয় দলে ফেরার স্বপ্ন ফেনীর ছেলে সাইফউদ্দিনের


অনেক সম্ভাবনা নিয়ে তার ক্রিকেটে আবির্ভাব। বাংলাদেশে পেস বোলিং অলরাউন্ডারের খরার মধ্যে তিনি ছিলেন এক পশলা বৃষ্টির মতো। জাতীয় দলে অভিষেকও হয়ে যায় ২০ বছর বয়সে।তবে ফেনীর ছেলে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন টাইগার-ভক্তদের মন জয় করতে পারেননি। তিনটি ওয়ানডে আর ছয়টি টি-টোয়েন্টি খেলে আপাতত তিনি দলের বাইরে। অবশ্য হাল ছেড়ে দেননি। কঠোর পরিশ্রম করে জাতীয় দলে ফেরার স্বপ্ন এই তরুণ অলরাউন্ডারের।

সাইফউদ্দিনের অন্যতম সমস্যা ডেথ ওভার বোলিং। গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকা সফর, বিপিএল আর এ বছরের শুরুতে ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ের সঙ্গে ত্রিদেশীয় সিরিজ মিলিয়ে অন্তত তিনটি ম্যাচে শেষ ওভারে খেই হারিয়ে দলকে ডুবিয়েছেন তিনি।

গত ফেব্রুয়ারিতে সর্বশেষ জাতীয় দলের পক্ষে খেলা সাইফউদ্দিন নিজের বোলিং নিয়ে বেশ চিন্তিত। শনিবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে সংবাদ মাধ্যমকে নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমি অনেক পরিশ্রম করছি। বোলিংটা হয়তো ভালো হচ্ছে না, সেজন্য বিশেষভাবে কাজ করছি। বোলিং ভালো হলে আশা করি পাকাপাকিভাবে দলে ঢুকতে খেলোয়াড়দের এমন হয়ই, তাদের খারাপ সময়ের ভেতর দিয়ে যেতে হয়। আশা করি, সব হতাশা পেছনে ফেলে শিগগিরই জাতীয় দলে ফিরতে পারবো।’সাইফউদ্দিনকে আজও তাড়া করে ফেরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের সেই ওভার। গত অক্টোবরে পচেফস্ট্রুমে দ্বিতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে প্রোটিয়াদের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। সেদিন মাত্র ৩৫ বলে সেঞ্চুরির পথে (টি- টোয়েন্টিতে সেটাই দ্রুততম সেঞ্চুরি) সাইফউদ্দিনের করা ১৯তম ওভারে পাঁচটি ছক্কা সহ ৩১ রান তুলে নিয়েছিলেন কলিন মিলার।
ওই ওভারের কথা তাই ভুলতে পারেন না তিনি, ‘সেই ওভারটা আমার ক্যারিয়ারের জন্য একটা শিক্ষা হয়ে থাকবে।’ সেদিনের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যেতে চান সাইফউদ্দিন।

বিসিবির হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) ইউনিটের বোলিং কোচ চম্পকা রামানায়েকের অধীনে পরিশ্রম করে চলা তরুণ অলরাউন্ডার বলেছেন, ‘এখন পেস বোলিং ক্যাম্প চলছে। ক্যাম্পে নিজের বোলিংয়ের উন্নতির চেষ্টা করছি।চম্পকা সাহায্য করছেন। নিজের ভ্যারিয়েশন নিয়ে কাজ করছি। ইনিংসের শেষের দিকে আমি একটু বেশিই রান দিচ্ছি ইদানীং। এ বিষয়ে চম্পকা পরামর্শ দিচ্ছেন, আর আমিও তার
পরামর্শ মেনে পরিশ্রম করছি।’

About editor