রায়পুরে ডাকাতিয়া নদী চলাচলের উপযোগীর দাবীতে বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত


মোঃওয়াহিদুর রহমান (মুরাদ)

রায়পুরে ডাকাতিয়া নদী দখল করে লাভের আশায় মাছ চাষ সহ নদী দখল চলছে! প্রশাসন বলছে শীগ্রই অভিযান পরিচালনা হবে। এদিকে শনিবার রায়পুর প্রাইম ব্যাংকের সামনে মানববন্ধন আয়োজন করা হয়। ডাকাতিয়া নদী সুরক্ষা আন্দোলন এর আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন রায়পুরের বিভিন্ন সমাজ, শ্রেনীর বিপুলসংখ্যক লোকজন।
ডাকাতিয়া নদীর লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভাসহ উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী, উত্তর চরবংশী, উত্তর চরআবাবিল, দক্ষিণ চরআবাবিল, ইউনিয়ন অংশে প্রায় ২০০ একর এলাকা জবরদখল করে নিয়েছেন ক্ষমতাশীন দলের স্থানীয় ১৫ প্রভাবশালী নেতা। সম্প্রতি উচ্চ আদালতের নির্দেশে সারাদেশে নদী ও জলাশয়গুলো দখলমুক্ত করতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়। কয়েকটি জায়গায় প্রশাসন অভিযান চালিয়ে দখলমুক্ত করলেও রায়পুরে অভিযান শুরু হয়নি।
“দখল দূষনমুক্ত প্রবাহমান ডাকাতিয়া নদী, বাচঁবে প্রাণ-বাচঁবে প্রকৃতি” এ শ্লোগানে ডাকাতিয়া নদী ও জলাশয়গুলো দখলমুক্ত করে রায়পুর থেকে হাজীমারা পর্যন্ত নৌ-পথ চালুর দাবিতে শনিবার (৯ মার্চ) বিকেল ৩টায় স্থানীয় ডাকাতিয়া সুরক্ষা আন্দোলন কমিটির উদ্যোগে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এভাবে নদী ও খালগুলো দিন দিন দখল হতে থাকলে বন্যাসহ পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটতে পারে, এমনটি মনে করছেন এলাকাবাসী। দখলদারদের কবল থেকে নদী ও খালগুলো দখলমুক্ত করে সংস্কারের মধ্য দিয়ে অস্তিত্ব ফিরিয়ে আনার দাবি করছেন স্থানীয়রা।

ডাকাতিয়া নদী দখলে প্রভাবশালীরা হলেন- পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী ইসমাইল খোকন, সাবেক মেয়র ও জেলা আ’লীগের সদস্য রফিকুল হায়দর বাবুল পাঠান, দক্ষিন চরবংশী ইউনিয়নের মোল্লারহাট এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা শাহজাহান মোল্লা, মোহাম্মদ আলী মোল্লা, জাহাঙ্গীর হোসেন মোল্লা, মান্নান সরকার, দক্ষিন চরআবাবিল ইউনিয়নের হায়দরগঞ্জ এলাকার বাবুল বেপাার, নাছির মেম্বার, মাঈন উদ্দিন মোল্লা, শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক মানিক সরদার, আলী গোমস্তা ও হেলাল প্রমুখ। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) আওতাধীন এ নদীটি গত ১৫ বছর ধরে দখল করে রেখেছেন তারা। মাছ চাষের নামে তারা সেখানে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে স্বাভাবিক পানি প্রবাহকে বাধাগ্রস্থ করে চলেছেন।

দখল প্রতিরোধে পাউবোর কর্মকর্তাদের কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা চোখে পড়ছে না। বরং তারা নিয়মিত দখলকারীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এছাড়া কতিপয় ব্যক্তিকে ম্যানেজ করে পাউবোর শতাধিক জমিতে অবৈধভাবে তোলা হয়েছে দেড়-শতাধিক দোকানঘর। ওই জায়গা ইজারার নামে একটি চক্র ইতিমধ্যে লাখ লাখ টাকাও হাতিয়ে নিয়েছে। পরিত্যক্ত ভবনগুলোতে দিন-রাত চলছে মদ-গাঁজা সেবনসহ নানা অনৈতিক কর্মকান্ড।
উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট শিল্পী রাণী রায় বলেন, নদীতে মাছ চাষের বিষয়ে কোন কাগজপত্র পাইনি। নদী দখলমুক্ত করতে একটি চিঠি পেয়েছি।মাসিক সমন্বয় সভায় দখলমুক্ত ও কচুরিপানা অপসারণ বিষয়টি একাধিকবার তুলেছি। বর্জ্য ও কচুরিপানা অপসারণে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছি।

উল্লেখ্য, বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ১৯৯২ সালে ফ্লাড এ্যাকশন প্লান (ফ্যাপ)- ২০ প্রকল্পের আওতায় নদীটির উৎস মুখের কাছে (রায়পুর শহর থেকে ৮নং দক্ষিণ চরবংশী হাজিমারা) পানি উন্নয়ন বোর্ড সুইজ গেইট নির্মাণ করায় নদীতে নৌ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। সেই সঙ্গে পানির প্রবাহ হ্রাস পায়। তার আগ থেকেই ডাকাতিয়া নদীর দু’পাড়ে দখল প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে ৯০ দখকের মাঝামাঝি এসে দখলের ধুম পড়ে যায়। যা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

About alokitonoakhali