রায়পুরে নিম্ন মানের সড়ক নির্মাণে জড়িতদের কালো তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে-ইঞ্জিনিয়ার হারুন 

আলোকিত নোয়াখালী: Senior Editor | সংবাদ টি প্রকাশিত হয়েছে : ০৩. জানুয়ারি. ২০২০ | শুক্রবার

রায়পুরে নিম্ন মানের সড়ক নির্মাণে জড়িতদের কালো তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে-ইঞ্জিনিয়ার হারুন 

মো.ওয়াহিদুর রহমান মুরাদ। 

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে সড়ক মেরামত কাজে ব্যাপক অনিয়মের ঘটনায় স্থানীয় জনতার প্রতিবাদ বিক্ষোভ। রায়পুর উপজেলার ৫নং ইউনিয়নের পশ্চিম চরপাতা গ্রামে আমিন বাজার থেকে দক্ষিণ দিকে দেওয়ান বাড়ী প্রায় আদা কিলোমিটার সড়কে এলজিইডির কাজ চলা অবস্থায় বিক্ষোভ হয়েছিলো কিছুদিন আগেও। তবে নিম্নমানের কাজ করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার হারুনুর রশিদ।

নিম্নমানের পঁচা খোঁয়া ইটা দিয়ে চলমান বিভিন্ন  সড়কের কাজ করায় জনপ্রতিনিধি সহ স্থানীয় জনতার প্রতিবাদ বিক্ষোভ করে। বিভিন্ন এলাকার  গ্রামবাসী আরও জানায়, নামে মাত্র কোন রকম সড়কের কাজ করছে, বছর না যেতেই পথচারীদের যাতায়াত চলাচল ব্যবস্থা চরম দুর্ভোগে পড়তে হবে। আমরা এর সমাধান চাই।

সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায়, গত বছরের জুন – জুলাইয়ের দিকের রায়পুর উপজেলায় মেঘনা উপকূলীয় বেড়ীবাধঁসহ প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যায়ে পৃথক ৪টি গ্রামীণ সড়ক সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে সিডিউল বহির্ভূতভাবে দরপত্রের শর্ত ভঙ্গ করে কাজ করায় জন-প্রতিনিধিসহ স্থানীয়রা বাধা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দিয়েও কোন প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। গত ১০ ফেব্রুয়ারী উপজেলা প্রকৌশলী সরেজমিন গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে সঠিকভাবে কাজ করার জন্য ঠিকাদারদের কঠোর নির্দেশনা দেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীদের বাধা উপেক্ষা করে আবারও নিম্নমানের কাজ করায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয় তখন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) রায়পুর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে টেন্ডারের মাধ্যমে উপজেলার কয়েকটি গ্রামীণ সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু করেন সংশ্লিষ্ট বিভাগ। তার মধ্যে ১০ নং রায়পুর ইউনিয়নের মিতালী বাজার থেকে হাওলাদারহাট পর্যন্ত ৩.৮৮০ কিলো মিটার ও হাওলাদারহাট থেকে ঝাউডুগী বাজার পর্যন্ত প্রায় ৫ কিঃ মিঃ সড়ক ২ প্যাকেজে ৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যায়ে সড়ক সংস্কারের কাজ পান লক্ষ্মীপুর সদরের আরইএন এন্টারপ্রাইজের মালিকানাধীন মোঃ খোরশেদ। মেঘনা উপকূলীয় অঞ্চল উত্তর চরআবাবিল ইউপির হায়দরগঞ্জ রচিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন থেকে উত্তর চরবংশীর চমকা বাজার পর্যন্ত ৫ কিঃ মিঃ (৭৫০ থেকে ৫৭৫০ মিটার) ১ কোটি ৪৮ লাখ ৮৫ হাজার ২৭১ টাকার ব্যায়ে এ সড়ক সংস্কারের কাজটি পান লক্ষ্মীপুর সদরের নেহাল ট্রেডার্স। এ কাজটি আবার কিনে নেন রায়পুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ও ঠিকাদার কৌশিক আহাম্মেদ সোহেল। চমকা বাজারের পাশে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা ব্যায়ে এক কিলো মিটারের কবিরাজ বাড়ী সড়ক সংস্কারের কাজ পান লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার সামিয়া এন্টারপ্রাইজ। প্রায় ৬ কোটি টাকা পৃথক ৪টি সংস্কার কাজেই গত ৪ দিন আগে শুরু করেছেন সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদাররা। ঠিকাদাররা ক্ষমতাসীন দলের নেতা ও স্থানীয় প্রভাবশালী হওয়ায় কোনো সিডিউল অনুসরণ না করে নিয়মবহির্ভূতভাবে দায়সারাভাবে কাজ করছিলেন। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে সড়কের সংস্কার কাজ করায় মিতালী বাজার স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ মুসলিম এলাকাবাসীকে নিয়ে কাজে বাধা দেন ও অভিযোগ করেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও ওই সড়কের সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকরা বলেন, সংস্কার নিম্নমানের ইট ও কংকর ব্যবহার করা হচ্ছে। নামমাত্র বিটুমিন দিয়ে কাজ করছেন তাও নিম্নমানের। রাস্তায় পাতলা করে কার্পেটিং দেয়া হচ্ছে। বেড়ীবাঁধের পাশের মাটি কেটে আবার সেই সড়কেই লাগানো হচ্ছে। ব্যাপক অনিয়মের মধ্য দিয়ে নিম্নমানের কাজ হওয়ায় অল্প কয়েকদিনের মধ্যে সড়কটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। হায়দারগঞ্জ বাজার, মেঘণা বাজার, সাগরদি, মিরগঞ্জ – নয়ারহাট, চালিতাতলি – ভোট অফিস বিভিন্ন সড়কের কার্পেটিং উঠে পুরোনো চেহারায় ফিরছে।

সংশ্লিষ্ট কাজের জেলা সদরের ঠিকাদার খোরশেদ ও রায়পুরের ঠিকাদার কৌশিক আহাম্মেদ সোহেল বলেন, সংস্কার কাজে কোন অনিয়ম হয়নি।সমস্যা হলে তা আবার ঠিক করে দেয়া যাবে। সিডিউল অনুযায়ী আমরা সঠিকভাবে কাজ করছি। কোন অনিয়ম ও নিম্নমানের কংকর ব্যবহার না করার তারা দাবি করেন

স্থানীয় জনতার প্রতিবাদের মাধ্যমে জানা যায়,বাসাবাড়ি সহ অনেক সড়ক মেরামতে নিম্নমানের ইটা খোঁয়া দিয়ে কাজ করায় এ অনিয়ম নিয়ে দফায় দফায় প্রতিবাদ জানানো হলে ঘটনাস্থলে উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন স্থানীয় প্রতিনিধি সহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

 এ নিয়ে যোগাযোগ করা হলে, উপজেলা এলজিআরডির প্রকৌশলী মোঃ হারুনুর রশিদ বলেন, অনিয়ম করে কাজ করলে কোন ছাড় নেই, ১ বছরের ভিতর রাস্তা নষ্ট হলে জামানত ফেরৎ পাবেন না ঠিকাদাররা। আমি যতদিন থাকবো কোন অনিয়মের ছাঁড় নেই। ইতোমধ্যেই রায়পুরের উপজেলার ভিতরে ৬০.০৬ মিঃ রাস্তা বাকী রয়েছে, এছাড়াও ইউনিয়ন সড়ক ৭২.১৮মি.,গ্রামীণ সড়ক “এ” ১১৩৩ এবং “বি” ক্যাটাগরিতে ১৬১৬ মিটার অবশিষ্ট রয়েছে। স্থানীয়দের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে সরেজমিন গিয়ে অনিয়মের সত্যতা পেয়ে কাজ সঠিকভাবে করার জন্য ঠিকাদারকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যদি সঠিক না হয় সংস্কারের কাজ ও বিল বন্ধ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। দরপত্রের চুক্তির শর্ত অনুযায়ী রাস্তার কাজ ঠিকমতো বুঝে নেয়া হবে।

এই বিভাগের আরো খবর Posts