রায়পুরে পিকনিক বাসে ছাত্রী অপহরণের চেষ্টা, কিশোর গ্যাংয়ের হামলা

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

নিউজ ডেস্ক

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে শিক্ষা সফরের (পিকনিক) গাড়ি বহরে হামলা ও এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা চালিয়েছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা।

এ ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পরও কাউকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়নি পুলিশ। আতঙ্ক বিরাজ করছে অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে।

মধ্য সাগরদী খাদিজাতুল কোবরা (রা:) দাখিল মাদ্রাসার বার্ষিক শিক্ষা সফরের গাড়িবহরে সোমবার দিনভর দুই দফায় এ হামলা করা হয়।

স্থানীয় কিশোর গ্যাং শান্ত ও বিষু বাহিনীর অন্তত ১০-১২ জন সদস্য রামদা, চাইনিজ কুড়ালসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এ হামলা চালায় বলে সংশ্লিষ্টরা নিশ্চিত করেছেন।

এলাকাবাসী ও মাদ্রাসা কমিটি সূত্রে জানা গেছে, বার্ষিক শিক্ষা সফরে চাঁদপুর মিনি কক্সবাজার নামে খ্যাত স্পটে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মধ্য সাগরদী খাদিজাতুল কোবরা (রা.) দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক, অভিভাবকসহ ১২০ জন ৯টি গাড়ি নিয়ে রওনা হয়। তার পিছন দিয়েই ৪-৫টি মোটরসাইকেলে স্থানীয় কিশোর গ্যাং ‘শান্ত-বিষু’ বাহিনীর ১০/১২ জন সদস্য পিছু নেয়।

তারা পথে এক ছাত্রীকে খুঁজে তাকে গাড়ি থেকে বের করে নিতে উদ্যত হয়। তারা আসা-যাওয়ার পুরো পথেই উত্যক্ত করে এবং পথিমধ্যে গাড়ি বহর আটকানোর একাধিক চেষ্টা করে। গাড়ির ড্রাইভাররা তাদের সিগন্যাল না মানায় তারা এক ড্রাইভারকে মারধরও করে।

বিষু, শান্ত ও মোহাম্মদ উল্যার নেতৃত্বে বখাটে গ্রুপটি রায়পুর-কাপিলাতলী সড়কের জ্বিনের মসজদিদের সম্মুখে এসে গাড়ির অবরোধ করে হামলার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল এসে শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে মাদ্রাসায় পৌঁছে দেয়।

এরপর সোমবার সন্ধ্যায় পুনরায় বিষু-শান্তর নেতৃত্বে ২০-৩০ জনের একটি বখাটে গ্রুপ মাদ্রাসা এলাকায় গিয়ে রামদা, চাইনিজ কুড়ালসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও গাড়ির ড্রাইভারদের উপর হামলার চেষ্টা চালায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কিশোর গ্যাং গ্রুপটির নেতৃত্ব স্থানীয় হল একই এলাকার মানিক সাহার বাড়ির মো. হারুনের ছেলে মো. ফাহাদ (২০), রাব্বি (২৫). তোরাপের বাড়ির তাজুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ উল্যা (২৪), জাকিরের ছেলে শান্ত (২৫), ফাহিম (২০), ফকির বাড়ির মো. দেলোয়ারের ছেলে সবুজ (২২), তোরাপের বাড়ির বিশু ওরফে হৃদয় (২২) এবং সোনাপুর ইউনিয়নের বাসাবাড়ি চকিদার বাড়ির মো. লিটনের ছেলে ফাহিম (২২)।

এ গ্রুপের মূল নেতৃত্বে বিষু ও শান্ত থাকলেও তাদেরকে আবার নিয়ন্ত্রণ করে স্থানীয় ‘র’ আদ্যক্ষরের ক্ষমতাসীন দলের নেতা। যাকে আবার শেল্টার দেন জেলার এক বড় নেতা।

রায়পুর থানার ওসি মো. তোতা মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, তাদের একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের আটক করার চেষ্টা চলছে।