রায়পুরে লক্ষাধিক জনগনের জন্য ৮ জন চিকিৎসক! কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসক শূন্য


মোঃওয়াহিদুর রহমান (মুরাদ), বিশেষ প্রতিনিধি।
৫০ শয্যা বিশিষ্ট রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠার পর থেকে এত ক্রান্তিকাল অতিক্রম করেনি খুব বেশী। বর্তমান লক্ষ্মীপুর জেলা সিভিল সার্জন মোস্তফা খালেদ আহমেদ পদোন্নতির পর থেকে চিকিৎসক সংকট এবং অব্যবস্থাপনা তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে নিয়মিত। গত একমাসেই ৩ জন ইউএইচএফপিও এর বদলি এবং যোগদান হয়। চিকিৎসক সংকটের কারনে রোগীরা কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী রোগীদের।

২জন মাত্র গাইনি চিকিৎসক দিয়ে সরকারি এবং বেসরকারি সকল হাসপাতালের চিকিৎসা চলছে। বর্তমানে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১জন সার্জারি, ১জন দন্ত, ৩জন এমবিবিএস চিকিৎসক এবং ইউএইচএফপিও দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে চিকিৎসা সেবা চলছে লক্ষাধিক জনগনের । হার্ট, মেডিসিন, শিশু, চর্ম, কিডনি, ডায়বেটিস চিকিৎসক সংকটে ভুগছে রোগীরা।

চরলক্ষ্মী থেকে মর্জিনা বেগম নামে এক রোগী চর্ম চিকিৎসক দেখাতে এসে জানতে পারেন এখানে চর্ম চিকিৎসক নেই। তিনি ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, এত দুর থেকে এসেও ডাক্তার না থাকে তাহলে রোগীরা যাবে কোথায়?
রায়পুর উপজেলার নব নিযুক্ত ইউএইচএফপিও মাহাবুব আরেফিন চিকিৎসক অপ্রতুলতার কথা স্বীকার করে জানান, আমি নতুন যোগদান করেছি। যে কজন চিকিৎসক এখানে আছেন তাদের দিয়ে যতটুকু সম্ভব চিকিৎসা দেয়ার চেস্টা করে যাচ্ছি। অল্প কিছুদিনের ভিতর হাসপাতালের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরে আসবে। অতীতে কি হয়েছে সেটি জানতে চাই না। আমার অভিজ্ঞতা এবং সিস্টেম জনবান্ধব হবে। জনগনকে স্বাস্থ্য সেবা সঠিক ভাবে দেয়ার জন্য সরকার ও জনগনের কাছে আমরা অঙ্গীকার বদ্ধ। দালালদের চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং চিকিৎসকরা দায়িত্বে নিয়োজিত থেকে সঠিক ভাবে সেবা দিচ্ছেন।
ইতোমধ্যেই স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রায় ২৯ লাখ টাকার বরাদ্দ পেয়েছে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। রক্ষনা – বেক্ষন সহ নানান কাজে ঠিকাদারের অনিয়মের অভিযোগ এনে উন্নয়ন কাজও বন্ধ ছিলো কিছুদিন ।বর্ষার আগে কাজ শেষ না হলে বর্ষা মৌসুমে বিপাকে পড়বে চিকিৎসক এবং রোগীরা বলে জানান। রায়পুর উপজেলার জনগনের মান সম্মত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ করেছিলো। কিন্তুু নিয়োগ সংক্রান্ত জটিলতার কারনে জনবল নিয়োগ না হওয়ায় এসব ব্যায়বহুল যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে অকেজোর পথে।

লক্ষ্মীপুর জেলা সিভিল সার্জন মোস্তফা খালেদ আহমেদ জানান, চিকিৎসক সংকট দূর করার জন্য প্রতি মাসেই প্রতিবেদন পাঠাচ্ছি। বর্তমানে ৮ জন চিকিৎসক রয়েছেন সেখানে। চেস্টার ত্রুটি নেই চিকিৎসক বাড়ানোর জন্য।

লক্ষ্মীপুর -২ (রায়পুর) আসনের সাংসদ এবং হাসপাতালের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ নোমান এমপি বলেন, লাখ লাখ জনগনের দাঁড়প্রান্তে চিকিৎসা সেবা পৌঁছানো চিকিৎসক এবং সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব। ইতোমধ্যেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং সচিবকে রায়পুর উপজেলার চিকিৎসক সংকট দূর করার জন্য অনুরোধ করেছি। ওনারাও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

Facebook Comments

About editor

x

Check Also

ফেনী পুলিশ বিভাগের উদ্যোগে মহাসড়কের চার হাজার যাত্রীর মাঝে ইফতার বিতরণ

শেখ আশিকুন্নবী সজীব,ফেনী প্রতিনিধি: ফেনীতে ভিন্নরকম উদ্যোগ নিয়েছে জেলা পুলিশ বিভাগ। রবিবার (০৩জুন) বিকেলে তাদের উদ্যোগে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের লালপুলে প্রায় চার হাজার ...