সাংবাদিক যখন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের তোষামোদ কারি তখনই ঘটবে সংঘর্ষ 

“ভি বি রায় চৌধুরী “

বর্তমানে সাংবাদিকদের বৃহৎ একটি অংশ রাজনীতির পৃষ্ঠপোষক। এটি আমি অভিযোগ করে বলছি না, এটিই এখন বাস্তবতা বলে পরিগণিত! রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতা সাংবাদিকদের একটি খারাপ দিক। তাদের কর্মের উদ্দেশ্য রাজনৈতিক নেতাদের সাফাই গাওয়া কিংবা চাটুকারিতা করা নয়। সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। তাই তাদের কাজ, রাজনৈতিক নেতাদেরকে সমাজের অসঙ্গতিগুলো দেখিয়ে দেয়া। কিন্তু কতিপয় সাংবাদিকরা তা না করে নেতা সম্পৃক্ত হয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। সাংবাদিকরাই যদি দেশের জনমতকে বিভ্রান্তির দিকে ঠেলে দেয়, তাহলে সাধারণ জনগণ কোথায় গিয়ে তাদের অধিকারের কথা বলবে? কোথায় গিয়ে তারা অনিয়ম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ করবে?

বর্তমানে কতিপয় সাংবাদিকরা কোন স্বার্থে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের গুণগান গেয়ে বেড়ায়, তা সকলের বোধগম্য হলেও সাংবাদিকদের উচিৎ সে পথ পরিহার করা। সামান্য কিছু অর্থের জন্য বিবেকবান সাংবাদিকরা রাজনৈতিক ব্যাক্তির নিকট বিক্রি হচ্ছে। তাদের টিকে থাকতে রাজনীতির ছত্রছায়ার দরকার নেই, স্বচ্ছ সাংবাদিকতাই যথেষ্ট। বর্তমানে ফেসবুকের বদৌলতে সাংবাদিকরা রাজনৈতিক নেতাদের গুণগান প্রচারে একটু বেশিই মত্ত। নির্বাচন আসলে এসব সাংবাদিকদের কুমনোবৃত্তির কুকর্ম প্রবলভাবে চোখে পড়ে। কোথায় তারা গঠনমূলক আলোচনা করে জনগণকে সঠিক প্রার্থী বাছাইয়ে সহযোগিতা করবে, তা না করে রাজনৈতিক নেতাদের পক্ষে প্রচারণায় লিপ্ত হয়। নেতারাও দোষ-ত্রুটি ঢাকার সুযোগ পেয়ে যায়। জনগণ নেতার চেয়ে সাংবাদিকদের বেশি বিশ্বাস করে। যখন সাংবাদিকরা একজন অযোগ্য নেতাকে সমর্থন করে, সাধারণ জনগণ তা মেনে নেয়।

প্রশ্ন হলো, সাংবাদিক হয়ে রাজনৈতিক নেতাদের পক্ষ নেয়ার দরকার কি? সে ক্ষমতাসীন হোক আর বিরোধীই হোক, যোগ্য হোক আর অযোগ্যই হোক না কেন। সাংবাদিকের ধর্ম, নিরপেক্ষ থাকা। সাংবাদিকের কাজ, সত্য ও তথ্যবহুল সংবাদ প্রচার করা। তা না করে পছন্দের দলীয় নেতাদের প্রচার-প্রচারণা করা এ কেমন সাংবাদিকতা? এ জাতীয় কতিপয় সাংবাদিকের কারণে সারাদেশে সাংবাদিকদের প্রতি জনগণের আস্থা কমে গেছে, যেমনটা কমে গেছে রাজনৈতিক নেতাদের ওপর, পুলিশ-প্রশাসনের ওপর। সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতারা একই পথে হাঁটলে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের পাশাপাশি তথ্য অধিকার চরমভাবে বিঘি্নত হবে বলে আমি মনে করি। সাংবাদিকদের এহেন লজ্জাজনক কাজকর্মে আমার অভিমত, যেসব সাংবাদিক তাদের চরিত্র ও পেশাকে কলুষিত করে ভুল রাজনৈতিক মতাদর্শকে উপস্থাপন করে, পছন্দের দলের পক্ষে ছাফাই গায়, মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রচার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করে, তাদেরকে সংবাদ সংস্থা কর্তৃক অব্যাহতি দেয়া হোক। রাজনীতির খাতায় নাম লেখানোর সুযোগ দেয়া হোক। দেখি, তারা কেমন রাজনীতি করতে পারে! জনগণকে কতটুকু সেবা করতে পারে। সাংবাদিক মানসে রাজনীতির ভূত চেপে বসলে তাকে সাংবাদিকতা করা বোঝায় না। কতিপয় হলুদ সাংবাদিকতার কারণে জনগণ প্রকৃত তথ্য থেকে বঞ্চিত, বিভ্রান্তির শিকার। রাজনৈতিক পরিশীলতার পাশাপাশি বিপথগামী সাংবাদিকদেরকেও নিরসন করা দরকার।

About alokitonoakhali