সাম্প্রতিক




নোয়াখালীর মা-ছেলের গণপূর্তের চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে প্লট জালিয়াতি পর্ব-১

আলোকিত নোয়াখালী: Senior Editor | সংবাদ টি প্রকাশিত হয়েছে : ০৭. সেপ্টেম্বর. ২০২০ | সোমবার

নোয়াখালীর মা-ছেলের গণপূর্তের চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে প্লট জালিয়াতি পর্ব-১

আলোকিত নোয়াখালী ডেস্ক:
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিশাখা- ৯ এ অনানিতে অংশগ্রহণ ৩য় বার না করে সুপ্রিমকোর্টের রিটপিটিশন হাইকোরটে মামলার কথা উল্লেখ করে ‘আবারও তারা সময় চেয়ে আবেদন দেয় প্রতারকচক্র মা-ছেলে। মন্ত্রণালয়ের অধীস্থ চট্টগ্রাম রহমতগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগ-১ এর আওতায় আগ্রাবাদ যাণিজ্যিক এলাকার সরকারি, সম্পত্তির ১৬ নম্বর প্লটটি জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে
মা-ছেলের রাহুগ্রাসে পড়েছে। এভাবে একের পর এক সরকারি
সম্পত্তি হাতছাড়া হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সরকার। অন্যদিকে হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে ভোগ দখলের মাধ্যমে লাভবান হচ্ছে  সরকারি এসব সম্পত্তির জাল-জ্বালিয়াত চক্র।

জানা গেছে, সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্রের সক্রিয় সদস্য ফরিদ আহম্মেদ ও ফাতেমা বেগম স্বাস্থ্য ও গণপূর্ত মন্ত্রনালয়ের কিছু কর্মকর্তার অসাধু সহযোগিতায় এই জালিয়াতি করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় চগ্রামের আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় সরকারি সম্পত্তি ১৬ নম্বর প্লটটির মালিক পাকিস্তানে চলে যাওয়ার কারণে পরবর্তীতে সরকারি সম্পত্তি হিসেবে নথিভুক্ত হয়। পরে উক্ত প্লটের ভবনটি যে যার মতে ব্যবহার করতে থাকে ২০০৩ সালে বিএনপি সরকারের আমলে উক্ত প্লটটি মেসার্স কনকর্ড ট্রেডিংয়ের পক্ষে মোঃ ফরিদ আহমেদ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ২৭-০৫-২০০৩ তারিখের মাধ্যমে একসনা (বাৎসরিক) লিজ গ্রহণ করেন। যার বাৎসরিক ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছিল-৪,৭৪,৪৫০ (চার লাখ চুয়াত্তর হাজার চারশত পঞ্চাশ টাকা)। যদিও লিজ প্রহীতা ফরিদ আহম্মেদ ২০০৩ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত কোনো ভাড়া পরিশোধ করে নাই। অন্যদিকে চক্রের অপর সদস্য, ফরিদ আহম্মেদ ও তার মা-ফাতেমা বেগম গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তার মাধ্যমে নিজ নামে জাল-জালিয়াতিয় মাধ্যমে একটি দলিল করে নিয়ে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে একটি প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেন। এদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যখন নিয়মিত, ভাড়া না পেয়ে ফরিদ আহম্মেদের লিজ বাতিল করার প্রক্রিয়া শুরু করে তখন ফরিদ আহম্মেদ হাইকোর্টে রিটপিটিশন করেন। যার নং- ৪২৩০/২০০১। সেখানে মাননীয় হাইকোর্ট ঐ প্লটের বাৎসরিক লিজ বাতিল করে স্থগিত করে। ঐ একই সময়ে চট্টগ্রামস্থ রহমতগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগ-১ এর উচ্চমান সহকারী সিরাজুল ইসলামের যোগসাজসে অবৈধ উপায়ে ফাতেমা বেগমের নামে জাল দলিল ও নাম জারির ব্যবস্থা হয়ে যায়। চট্টগ্রাম গণপূর্ত বিভাগ-১ এর সিরাজুল ইসলাম সহ অসাধু ব্যক্তিরা সকল কাগজপত্র ওলট-পালট করে জাল-জালিয়াত়ির মাধ্যমে ফাতেমা বেগমকে ১৬নং প্লটের মালিক বানিয়ে দেন। ফাইলপত্রে আগ্রাবাদের ১৬ নং প্লটের মূল মালিক হচ্ছেন-এস জে-এস জি ফজলে এলাহী এবং ২০০৬ সালে , গণপূর্ত বিভাগ খেকে আগ্রাবাদ ভবনের গ্রাউন্ড রেন্ট জমা দেয়ার জন্য পত্র জারি করেন। প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামস্থ রহমতগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগ-১ এর কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ১৯৬৮ সালের আবেদন জাল-জালিয়াতি করে হস্তান্তর অনুমতিপত্র নিয়ে জাল দলিলের মাধ্যমে প্লটের, মালিক বনে যান জালিয়াত চক্রের সত্রিয় সদস্য মা মাতেমা বেগম ও ছেলে ফরিদ আহম্মেদ।
সময়ের মধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কিছু দু্নীতিবাজ কর্মকর্তা হাতিয়ে নেন অডেল টাকা। অনুসন্ধাণী সুত্রে জানায়, ২০০৩ সালে কনকর্ড ট্রেডিংয়ের মালিক ফরিদ আহমেদ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে একসনা লিজ নিয়ে মালিক হলেও ১৯৬৮ সাল থেকে ভূমিদস্যু জালিয়াত চক্রের মূলহোতা ফাতেমা বেগম ১৬নং প্লটের দলিল মূলে মালিক আছেন অথচ ২০০৬ সালে ভাড়া পরিশোধের নোটিশ আসে ফজলে এলাহীর কাছে। আবার ফরিদ আহম্মেদ ২০১১ সালে রিটপিটিশন মামলা দায়েরও করেন, যার নং-৪২৩০ ৷ এ ব্যাপারে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ২০১৭ সালে ৪ ডিসেম্বর উন্নয়ন অধি শাখা-১ থেকে চট্টগ্রাম গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলীকে উক্ত আগ্রাবাদ  বাণিজ্যিক এলাকার ১৬ নং প্লটের জালিয়াতির বিষয়ে ভয়ঙ্কর তথ্য বেরিয়ে আসে।

গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এক সাহসী কর্মচারী ও ফাতেমা বেগমের বোনের ছেলে মোঃ ইউচুফ তার প্রতিবাদ করায় ফাতেমা বেগম ও তার ছেলে ফরিদ আহমদের গংয়েরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে পরে ইউছুপ ঢাকার শেমপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

(আগামী পর্ব দেখতে আমাদের সাথে থাকুন)

এই বিভাগের আরো খবর Posts